শিরোনাম: হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অনীহা—মিত্রদের দ্বিধা ও ট্রাম্পের হতাশাnnnn
Nnmn
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি আবারও উত্তপ্ত। বিশ্বে.র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ নতুন কিছু নয়। তবু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এই উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সময়ে মিত্র দেশগুলোর অনীহা বিষয়টিকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছিল।
হরমুজ প্রণালী এমন একটি রুট, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই চেয়েছে, তাদের মিত্ররা এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন—অনেক দেশই সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততায় যেতে চায় না।
এই অনীহার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি। ইউরোপীয় দেশগুলো বিশেষভাবে এই বিষয়ে সতর্ক, কারণ তারা কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেয়। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অনেক দেশের জনগণের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব তৈরি করেছে। ফলে সরকারগুলোও সহজে সামরিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের হতাশা ছিল স্বাভাবিক। “বোঝাপড়া” ও “বোঝা ভাগাভাগি”—এই দুটি শব্দ ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে বারবার এসেছে। তিনি মনে করতেন, যুক্তরাষ্ট্র একাই বিশ্ব নিরাপত্তার ভার বহন করতে পারে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, মিত্ররা নিরাপত্তার গুরুত্ব স্বীকার করলেও সামরিকভাবে এগিয়ে আসতে দ্বিধাগ্রস্ত।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—বিশ্ব নিরাপত্তা কি শুধুই শক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব? নাকি কূটনীতি, আস্থা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান? হরমুজ প্রণালী ইস্যু এই প্রশ্নগুলোকেই আবার সামনে নিয়ে আসে।
সবশেষে বলা যায়, এই ঘটনাটি শুধু একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট নয়; বরং এটি বৈশ্বিক রাজনীতির এক বাস্তব চিত্র। যেখানে মিত্রতা আছে, কিন্তু সীমাবদ্ধতা আরও বেশি। আর সেই সীমাবদ্ধতার মাঝেই বড় শক্তিগুলোর কৌশল, হতাশা এবং বাস্তবতার সংঘর্ষ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
.jpeg)
Comments
Post a Comment